শ্রীমঙ্গল ভ্রমন ২০১৬

শ্রীমঙ্গল ভ্রমন ২০১৬
১৭ই নভেম্বর, ২০১৬ঃ
সকালে উঠলাম বোধহয় ন'টার দিকে। রাতে দেরি করে ঘুমিয়েছিলাম। জানি,কালকে শিক্ষা সফর। জীবনে প্রথমবারের মতো পরিবার ছেড়ে বন্ধুদের সাথে স্কুল থেকে দূরে কোথাও যাচ্ছি, কিছুটা উত্তেজনা কাজ করছিলো ভেতরে ভেতরে।
উঠে পড়লাম, সকাল দশটায় কেমিস্ট্রি পড়া। গিয়ে দেখলাম, স্যার আসেনি, হাটা দিলাম সালেহিনের বাসার দিকে। 
বাসার সামনেই সবাইকে পেলাম, কমলা, লেবু আর যায়েদের হাতে ব্ল্যঙ্ক টিশার্টের বান্ডিল।
আর আমার আর রুদ্রোর কাজ ছিলো রাত সাড়ে তিনটার দিকে গিয়ে স্পীকার নিয়ে আসা :p
সন্ধ্যার একটু আগে প্রিন্ট শেষ হলো, আর গাট্টী গাট্টী টিশার্ট জড়ো হতে থাকলো সালের বাসায় :p
রাত দশটার দিকে টিশার্ট ডিস্ট্রিবিউশন শেষ হলো। 
এই টি  শার্ট প্রিন্ট করাতে গিয়েই সারাদিন চলে গেলো।
রাতে ঘুম হলোই না, রাত দেড়টার দিকে ঘুমালাম কিছুক্ষন।




১৮ই নভেম্বর, ২০১৬ঃ
ঘুম ভাংলো পৌনে চারটার দিকে। উঠেই মনে হলো রুদ্ররে ঘুম থেকে জাগানো দরকার। ফোন দিলাম, ধরলো।
"আমি আসতেছি খারা" :3
একটু পরে আবার রুদ্রের ফোন, তখন দাঁত মাজতেছিলাম :p
"হ্যালো নাইম, তোরা চলে যা, আমি আর তুরাবি আসতেছি বক্স নিয়ে"
"তোর ঘুম ভাঙ্গে নাই?"
"অ্যাঁ?"
"বাথরুমে যা"
"কে?"
"তুরাবি"
"ওঃ আমি নাইম মনে করসিলাম, আচ্ছা তুই পুলপার আয়"

রাত চারটায় পুরো রেডি হয়ে বের হলাম, আব্বা কিছুটা পথ এগিয়ে দিলো। পুলপার থেকে তিনটা সাউন্ড বক্স দুইটা রিকশায় উঠায় দিয়ে আমি আর রুদ্র রিক্সায় উঠলাম। ভালই ঠান্ডা, কুয়াশা কুয়াশা ভাব আর রাস্তা ফাকা। জীবনে প্রথমবার মাঝরাতে স্কুলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার <3 (তখন একটু আধটু সিগারেট ফোঁকার বদভ্যাস ছিলো। বয়স কম, ফাঁকা রাস্তা পেয়ে সুযোগ কাজে লাগাইছিলাম,  ভোরের বাতাসে ক্লাস টেনের একটা ছেলে বিড়ি ফুকতেছে ভাবতেও হাসি পায়)
স্কুলে পৌঁছে বক্সগুলো যারযার বাসে দেয়া হলো। স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের ভীড় দেখে মনে হচ্ছিলো, রাতেও ক্লাস ঃভ
বাসে ডিউটি নিয়েছিলেন সুধীর স্যার। ১৬ তারিখ রাইসুল স্যার যখন বললেন, তোমাদের সাথে সুধীর স্যার যাবেন তখন অনেকটা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছিলাম -_- কিন্তু বাসে উঠার পর পুরো মেন্টালিটিই বদলে গিয়েছিলো।
বাস ছাড়লো ৫.১৫ দিকে। আমরা ছিলাম ৯ নাম্বার বাসে। ছেলেদের প্রথম বাস, আগের সব বাস মেয়েদের।
বাসে উঠেই প্রথম গান ছিলো "আমার পথচলা" <3 
বাসে স্পীকার বেশি সময় চলে নাই, মাঝ পথে পাকনামির ফলে স্পীকার ডেড :3 তারপরে গলার উপর ভরসা করে চলেছি বাকিটা পথ।
স্পীকারের উপর উঠে স্টেজ মতো ভাব করা :3 <3
আমরা নাচছিলাম কিছু গানের তালে যা কারো না শোনাই উচিত। এবং আমরা ক্রিয়েটিভ যেটা কারো জিজ্ঞেস করা উচিত নয়। যদি আমরা বলি কেনো আমরা ক্রিয়েটিভ তবে আমাদের একজন বন্ধু আর পাবলিকের সামনে আসবে না :3
 সবাই জানতে চায় রিমনের কি হইছিলো :3
হঠাৎ উঠে এলেন আলী মর্তজা স্যার, বললেন গান ধরো তোমরা।
"যখন আছে সাথে জাওয়াদ... "স্যারের সামনেই সমস্বরে "ফেন্সিডাইল" গাইলাম :3 স্যারের গানের লিরিক্স শুনে এক্সপ্রেশনটা সেই ছিলো :D
তারপর যখন গাওয়ার মতো গান ছিলো না, আমার আর জোগির "খাঁচার ভেতর অচিন পাখি" চলেছিলো, মর্তজা স্যার আর বাশার স্যারও গলা মিলিয়েছিলেন। বাসের ভেতর হয়েছে হকারগিরি :3 শামীম ভাইকে কপি করার চেষ্টা #মাজা_মবে_একসাথে (ধইন্নবাদ ফর ভ্যাগা'স (অপূর্ব) কন্ট্রিবিউশন )
সকালের নাস্তা সবার ৯টায় শেষ হলেও আমরা করেছি ১.৩০এ, হোটেল রাজমনিতে যখন প্রথম স্টপেজে আমাদের বাস থামানো হয়।
আবার বাসে উঠলাম আমরা, প্রায় ১১.৩০শে আমরা শ্রীমঙ্গলে স্পটে পৌঁছুলাম। গিয়েই যে আমার ২০টাকা মারা গেলো সেটা বলে দেওয়া লাগবে না, কারন ২০ টাকা খালি আমার না, অনেকেরই মারা গেছে। :3
আমার কখনও লটারির ভাগ্য নাই, তাই লটারিতে পারটিসিপেট করি না, তাই যেই টাকাই আমি লটারিতে ঢালি না কেন, সেটা মারা যায় :3
গলফ কোর্সের মাঠে


স্পটে গিয়েই আমাদের ঘোরা শুরু হলো। আমাদের স্পট ছিলো গ্র্যান্ড সুলতান গলফ কোর্স। অসাধারন জায়গা সেটা, একপাশে স্থানীয়দের গ্রাম, আরেকপাশে চা বাগান, আর আরেকপাশে বেশ কিছু টিলা, টিলার উপর রাবার বাগান আর মাঝে গলফ কোর্স। পুরোটায় ঘোরা সম্ভব হয়নি, যতটা পেরেছি, দেখেছি। :/
টিলায় ওঠাটা মজার ছিলো :) কেননা সত্যিকারের পাহাড়ে ওঠার মজা কখনই পাইনি, এইটাতেই অনেকটা একটু ধারনা পেয়েছিলাম।
অনেকের ৩৫ মিটার পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ে যাবার অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে মনে হয় :3
একসাথে বসলাম পাশের গ্রামের চায়ের দোকানে, সেখানে চা-টা ভালো না লাগলেও সিঙ্গারা খারাপ লাগে নাই :D
গ্রামগুলো সুন্দর অনেক, রাবার বাগানের পাশে টিলার উপর ছোটো ছোটো গ্রাম।

Give me Common Sense
Give me some brain
Give me another chance
I'll bark and bark again :3

 উপরের চরণগুলো অপ্রাসঙ্গিক নয়, এটাও আমাদের মাঝের বহু গুনে গুণান্বিত জাওয়াদের লেখা বাচ্চালোনার প্রতি ট্রিবিউট :3 এবং এই গান আমরা স্পটে অনেক সময় গেয়েছি, এবং বাচ্চালোনার ফ্যানদের খুঁচিয়েছি :3
দুপুরের খাবার নিয়ে আমার বিস্তর অভিযোগ আছে, তবে What passed is past, কথা বলে লাভ নাই। -_-
দুপুরে ৩২ জন সহ স্যারদের সাথে খাওয়াটা উপভোগ করেছি অনেক :)
খাওয়া শেষে দই সমাচার :3

খাওয়ার পরে টিলায় বসে আড্ডা, গান, গফ নিয়ে খোঁচাখুঁচি সবই হয়েছে :D

কিন্তু শীতের দিনটা যেন অনেক তারাতারি চলে গেলো :(
বিকালে গলফ কোর্সের ভিউটা আমার অনেক ভালো লেগেছে, আসলে এরকম দৃশ্য সত্যই সচরাচর দেখা যায় না। :)
এরপর আমরা ফিরে গেলাম ঢাকায়, একদিনে আমরা জায়গাটার ১ পারসেন্টও দেখি নাই, তবে আবার যাবো শ্রীমঙ্গল :)
বিকালে বাসে উঠেই শুরু হলো নাচানাচি। বেস্ট ছিলো হাবিব স্যারের খোচা, "তোমরা তো নাচতেই পারো না, কি সব মরা মরা গান বাজাও, বাজাবা ইংলিশ বিট গান :p "
ঐ একটা খোঁচাই দরকার ছিলো, আর কানা নাহিদের বস্ত্রহরণ :3 শার্ট খুলে বাসের ভেতরে স্যান্ডো গেঞ্জি পড়েই সবাই নাচা স্টার্ট করে দিলো :p
বেস্ট ছিলো রিমন, খালি একটা হাফ প্যান্ট পড়ে লাফাইতেছিলো :3
মর্তজা স্যার আর জাকারিয়া স্যার এসেও নাচলেন আমাদের সাথে, অবশ্যই আমাদের মতো নয় :3
আমাদের সাথে গান গাইলেন সুধীর স্যার, হাবিব স্যার। বেস্ট ছিলো বাশার স্যারের ক্ল্যাসিক একটা বাংলা গান।  
জাকারিয়া স্যারের মোটিভেশনাল গল্পগুলোও বেস্ট ছিলো।
আর মোটিভেশনাল গল্পের মাঝে লিমনের কমেন্ট নিয়ে মর্তজা স্যারের কমেন্ট, “কিসব অশ্লীল ওয়ার্ড, ছেঁকা ফেঁকা ইউজ করো :3”
বেস্ট মুমেন্ট ছিলো, সবাই সিটে ঠাণ্ডায় কুকড়িয়ে বসে থাকা আর কেবিনের লাইট নিভিয়ে জাকারিয়া স্যারের ভুতের গল্প, বেস্ট :D
আর ডিজে ফয়সাল, সে দুইখানা সিট দখল নিয়ে ৩০ মিনিট ঘুমায় ছিলো উপরে দুই পা তুইলা দিয়ে, ভিডিও সেন্সরকৃত, পাবলিকে দেখানো যাবে না :3
আর কমল হা করে ঘুমাচ্ছিলো, তাকে আমরা ঘুমের মধ্যে বোতল মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে বের করেছি, এবং এই কাজ ৩০ বার করার পরেও তার ঘুম ভাঙ্গে নাই :3
আমি আমার কথা একটু কই, লাস্টের ৪টা সিট দখলে নিয়ে ১৫ মিনিট ঘুমাইসি, হোটেল উজানভাটিতে নামার আগে, তখন চিল্লাচিল্লি শুনলাম,
 "রিমনের প্যান্ট খুজে পাওয়া যাচ্ছে না, সে একটা চাড্ডী পরে আছে" 
আমি সেই অবস্থা দেখার জন্য তাড়াহুড়া করে উঠতে গিয়ে সিট থেকে পড়ে পায়ের রগে টান খাইলাম -_- তারপর ১৫ মিনিট মাইনসের কাধে ভর দিয়া চলছি,  অনেকে নোটিস করেছে এটা।
(তখনই এক মেয়ের প্রেমে পড়ছিলাম, বাস থেইকা নাইমাই এদিক সেদিক খুইজা বেড়াইতেছিলাম সেই মুখ, মজার ব্যাপার এখনোও সে মেয়ের সাথে আমার বন্ধুত্ব আছে xD)
এবারের ব্রেক শেষ হতেই শুরু হলো নাচ গান, তাও বেজ বুস্টেড :D সুধীর স্যার পর্যন্ত চলে আসলেন নাচতে, আর হাবিব স্যারের ছেলে তো প্রিতম হাসানের র‍্যাপ পুরো ডুপ্লিকেট করে দিয়েছে। ভালো লাগসে পিচ্চির কণ্ঠে র‍্যাপ :D
নাচ গানের মাঝে জোগি রিমনরে যা করেছে, সেটা উহ্য থাক :3 তবে ভিডিও প্রকাশ হবে না, রিমন নিশ্চিন্ত থাকতে পারে :3

তবে বাসে খেলা হয়েছে, যখন অন্য সব বাস ঘুমায় গেছে, আমরা চিল্লায় জাগিয়ে দিয়েছি ;)
যখন ১৪ নাম্বার মোড়ে আসে গেলাম, অভির চিল্লানি "মুড়ির টিন, ঐ মুড়ির টীন"
বাগে পাইয়া আমরাও চ্যাম্পিয়ন বাসগুলারে  দিলাম পচানি :3
রাত ১১.৩০ এর দিকে আমরা পৌঁছুলাম স্কুলে। মজাটা কেবল মনে হচ্ছিলো, তারাতারি শেষ :/
 
চা বাগানে টিম ব্ল্যাক :p

প্রার্থনা 


The Amazing Class Incharge Teacher of class Ten



আমার এই লেখাটা লেখার সময় কাঁদতে ইচ্ছা করছে, কারন জানিনা, আবার কি দেখা হবে বন্ধুদের সাথে, থাকবো কি একসাথে? :'(
আনিকার কথাটা ছিলো, 'দোস্ত, এক বছর পর কে কোথায় যাই কে জানে... আছিই আমরা আর দুইটা মাস, একটা সেলফি থাক স্মৃতি হিসেবে'
আসলেই জীবন অনেক নিষ্ঠুর :/
তবে.....
.
.
.
.
.
We are Brothers, Sisters
We have come United Brotherhood :D 
We will be Together :D




আরও পড়ুন

সানরাইট এইচটিএমএল টেমপ্লেট - SunRight Dynamic HTML Templete

সানরাইট এইচটিএমএল টেমপ্লেট - SunRight Dynamic HTML Templete
আসসালামু আলাইকুম,
আজকে আবার আরেকটি ডায়নামিক এইচটিএমএল ওয়েবসাইট টেমপ্লেট নিয়ে এলাম আপনাদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামুল্যে।
এর নাম সানরাইট। নামের কোনো মানেই নেই, পেছনের ব্যাকগ্রাউন্ড ইমেজের সাথে মিল রেখে নাম একটা দিয়ে দিয়েছি।
এইটিও সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স টেমপ্লেট।
যেকোনো সফটওয়ার ওয়েবসাইটের জন্য আদর্শ টেমপ্লেট এইটি।



ফিচার,
  • 95% Responsive
  • SEO Friendly
  • Clean Design
  • X Browser Support
  • Font Awesome Enabled
  • Bootstrap Enabled
  • Responsive menu bar
  • Social and Git Buttons
  • ajax Download Counter



.

আরও পড়ুন

রিসিস্টরের মাণ নির্ণয়ের সূত্র ও নিয়ম

রিসিস্টরের মাণ নির্ণয়ের সূত্র ও নিয়ম
রোধের কথা আমরা সবাই কম বেশি শুনেছি, পড়েছি, অনেকেই স্বচক্ষে দেখেছিও। যারা বিজ্ঞান বিভাগে বর্তমানে পড়াশোনা করছি, তাদের এটা আরো বেশি শোনার কথা।

প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডের ওপর রোধ বা, রিসিস্টর



এখন বলি, রোধ বা, রিসিস্টর হলো এমন একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ যা তড়িৎ প্রবাহে বাধা প্রদান করে।
এর মান প্রকাশ করা হয় ওহম দিয়ে, কেননা, পদার্থবিজ্ঞানী জর্জ সাইমন ওহম পদার্থের এই তড়িৎ প্রবাহে বাঁধাদানের সুত্র আবিস্কার করেন।

বর্তমানে বাজারে নানা মানের রোধ বা, রিসিস্টর পাওয়া যায়। এই মান বের করার জন্য রোধের গায়ে কিছু রঙের ব্যান্ড দেওয়া থাকে, একে আমরা সোজা বাংলায় পট্টি বলে থাকি।

এই রঙ গুলোর মানে আছে। নিচের এই চার্ট দেখেই ঘাবড়ে যাবে না, আরও অনেক জানার বাকি, বলছি দাড়াও...


কালার কোডের চার্ট


































একটা রোধের প্রথম ব্যান্ড থেকে গোনা শুরু করলে,
  1. মানের প্রথম অঙ্ক
  2. মানের দ্বিতীয় অঙ্ক
  3. গুণক
  4. শুদ্ধতার মান
এইগুলি থেকেই আমরা একটি রোধের মান নির্ণয় করতে পারি। কিভাবে?

এবার আমাদের অঙ্ক করতে হবে :p 

ধরি, আমাদের একটা রোধ আছে যার উপর কালার কোডগুলো হলো BrownYellowRed এবং Golden 
এবার আমরা কালার কোডের চার্ট থেকে মানগুলো বের করে নিই।
  • প্রথম ব্যান্ডের জন্য Brown এর মান 1 
  • দ্বিতীয় ব্যান্ডের জন্য Yellow এর মান 4 
  • তৃতীয় ব্যান্ডের জন্য গুণক Red এর মান 102 বা 100 
  • চতুর্থ ব্যান্ডের জন্য Golden এর শুদ্ধতার মান ±5% (মানে পাঁচ শতাংশ কম বেশি হতে পারে) 
প্রথম দুই ব্যান্ডের অঙ্ক কার্যত একটি সংখ্যা নির্দেশ করে। 
মানে, Brown এবং Yellow = 14 
তাহলে রিসিস্টরের মান হয়, 14 × 102 ± 5%

সর্বোচ্চ মাণ = 1470 Ω বা, 1.47 Kilo Ohm 
সর্বনিম্ন মাণ = 1330 Ω বা, 1.33 Kilo Ohm

নোটঃ
রোধ বা, রিসিস্টর পাঁচ ব্যান্ডের হলে এর প্রথম তিনটি ব্যান্ডের মানের অঙ্ক একটি সংখ্যা নির্দেশ করবে এবং ছয় ব্যান্ডের হলে প্রথম চার ব্যান্ডের মানের অঙ্ক একটি সংখ্যা নির্দেশ করে।


এবার আমরা যদি অঙ্ক না করে মাণ নির্ণয় করতে চাই তবে... তবে আমার ওয়েব অ্যাপলিকেশনটি ব্যাবহার করতে পারো, কিংবা অনলাইনে অনেক অ্যাপ আছে সেগুলো ব্যাবহার করতে পারো।
আমার রিসিস্টর ক্যালকুলেটরের লিঙ্ক, app.grplusbd.net/resistor-calculator

আমি শখের বশে ওয়েবসাইট অ্যাপ্লিকেশান ডিজাইন করি, তাও এটা এখন আমার নেশা হয়ে গেছে।


এবার আমার আরেকটা নতুন ওয়েব অ্যাপ এলাম, এবার তোমরা এই ওয়েব অ্যাপলিকেশন ব্যাবহার করে সহজেই কোনো ইলেক্ট্রনিক সার্কিট বোর্ডের বা অন্য যেকোনো ধরনের কার্বন ফিল্ম রিসিস্টরের মান নির্ণয় করতে পারবে। এটি মূলত ইলেকট্রনিক্স প্রফেশনাল, হবিস্ট এবং স্টুডেন্টদের জন্য ডেভেলপ করা, আমি নিজেই একজন হবিস্ট, তাই এইটি ডেভেলাপ করার চিন্তা মাথায় আসে, এখন এর ১.১ ভার্সন চলছে। আপডেট ও চেঞ্জ লগ লক্ষ করতে আমার ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক গিটহাবের আইডি দেখতে পারো, blog.grplusbd.net/2016/10/resistor-calculator.html#github


অ্যাপটি ব্যবহার করে দেখতে পারো, আছে আমাদের টিম জিআর+ এর সার্ভারেই!
app.grplusbd.net/resistor-calculator


আমি পুরো প্রোগ্রামিং করতে জাভাস্ক্রিপ্ট স্ক্রিপ্টিং ব্যাবহার করেছি।
এখানে জাভাস্ক্রিপ্টে লেখা স্ক্রিপ্ট ভিন্ন ভিন্ন ফাংশানে লেখা আছে, যখন ইউজার রঙ নির্বাচন করে, তখন এই ফাংশানগুলো এইচটিএমএল ‘অন চেঞ্জ’ অ্যাাট্রিবিউট দিয়ে কল করা হয়। তখন ঐ ফাংশনটি কালার অনুযায়ী ইন্টিজার ভ্যালু ইনপুট নেয়, কারন সিলেক্ট ট্যাগের মাধ্যমে রঙ ইউজার দেখতে পেলেও ভ্যালু হিসেবে ইন্টিজার ভ্যালু দেয়া আছে।

আর ফাংশনটি তখন কালার কোড ক্যালকুলেট করে আউটপুট দেয়, এবং এখানে আমি আরেকটি ফাংশন লিখেছি যেটা অনেক সহজ, যে কোনো ডেভেলপার এটা করতে পারবে, এইটা দিয়ে আমি রিসিস্টরের ছবি সিমিউলেশান করে দেখিয়েছি অ্যাপের ভেতরে, এর গ্রাফিক্সটা তৈরি হয় মূলত ক্যানভাস এবং সিএসএস দিয়ে।
এতে তিনটি ক্যালকুলেটর আছে, যা ৪, ৫ এবং ৬ পট্টি বা ব্যান্ডের রিসিস্টর কাউন্ট করতে পারে এবং মাণ নির্ণয় করতে পারে।
আছে একটা রেফারেন্স পেজ যাতে তুমি রিসিস্টর সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য পাবে। এছাড়া এটা রেস্পন্সিভ ডিজাইন হওয়ায় তুমি যেকোনো ডিভাইসে সাচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারবে।
আরও পড়ুন

কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ডাটা ট্রান্সফারের সহজ কিছু পথ

কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে ডাটা ট্রান্সফারের সহজ কিছু পথ
ডাটা ট্রান্সফার বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কমন একটা টাস্ক।
হোক মোবাইল ডিভাইস বা কম্পিউটার, আমরা নানা কাজে ডাটা ট্রান্সফার করছি।
উম... একটা কথা, আমি কিন্তু ইন্টারনেট ডাটার কথা বলছি না 😒😒

আমাদের নানা অফলাইন কন্টেন্ট শেয়ার করার কথাই বলছি। হতে পারে কোনো গান, মিউজিক ভিডিও, অ্যাপ, ছবি এটসেট্রা।
মোবাইলে এই কাজটা অনেক সহজ ও দ্রুতগতির। কারণ শেয়ার ইটের মতো অ্যাপ বর্তমানে ওয়াইফাই ব্যাবহার করেই উচ্চগতিতে ইন্টারনেট ছাড়া ফাইল ট্রান্সফারের সুবিধা দিচ্ছে, যার আগে কিনা আমরা ব্লুটুথ দিয়ে ৬০ কেবিপিএস স্পিডে ফাইল ট্রান্সফার করতাম।
এখন অবশ্য ব্লুটুথের স্পিড অনেক খানি বেড়েছে, এই স্পিড পেতে আপনাকে উচ্চ মানের ব্লুটুথ মডিউল ব্যাবহার করতে হবে, যেমন ৩.০ ভারসন বা তার উপরে।



আচ্ছা, কাজের কথায় আসি। ডেস্কটপে থেকে ডেস্কটপে ডাটা ট্রান্সফারে আমরা পেনড্রাইভ ব্যাবহার করে থাকি। কিন্তু পেনড্রাইভ যত বড় স্পেসের হোক না কেন, আমরা বিশাল পরিমান ডাটা ট্রান্সফার করতে গেলে আটকে যাবই।

আসুন একটা কেইস স্টাডি করি,
আমার একটা মুভি ফাইল আছে, ব্লু রে, ৬.৯ গিগাবাইট।
এখন আমার পেনড্রাইভ আছে মাত্র ৪ গিগাবাইটের। তো এখন উপায়? একটা উপায় এখানে আছে, মুভি ফাইলটিকে জিপ করে ফাইল স্প্লিটার দিয়ে ভেঙে নিয়ে ছোটো ছোটো করে ট্রান্সফার করা। কাজটা পানির মতো মনে হলেও ডাটা করাপশনের সম্ভাবনা ৮০% এবং এটি আপনার সময়কে নুরুল্লাহর মতো ভক্ষন করে ত্যাগ করে দিবে। 😂😂
আমাদের পিসি যদি ওয়াইফাই এনাবেল করা হয়, তবে আমরা শেয়ার ইটের ডেস্কটপ ভারসন অথবা শেয়ার লিংক অ্যাপ্লিকেশন ব্যাবহার করে ফাইল ওয়াইফাই ব্যাবহার করে ট্রান্সফার করতে পারবো। একইভাবে এটা ল্যাপটপ কম্পিউটার যুগলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। 😜😜

আচ্ছা, আমি আপনাদের অনেকের... মানে...
যারা এই শেয়ার ইট বা শেয়ার লিংক অ্যাপলিকেশন ডাউনলোড করে ইন্সটাল দিয়ে ওয়াইফাই ফাইল ট্রান্সফার পারবেন না, তাদের জন্য আরেকটি পোস্ট করে রেখেছি, সেটিতে একটু চোখ বুলিয়ে আসলে ভালো হয়, আর নাহলে আমি এই পোস্টেই উল্লেখ করে দিবো কিভাবে ওয়াইফাই দিয়ে ডাটা ট্রান্সফার করবেন, তাতে অনেক বড় পোস্ট হবে, আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে...

আমরা এই পোস্টে কয়েকটা স্টেপের মাঝে দিয়ে যাবো, যেমন,
  1. ল্যাপটপ থেকে ল্যাপটপ
    1.1  কানেক্ট2(শেয়ার ইট) অ্যাপ ব্যাবহার করে
    1.2  ল্যান ক্যাবল ব্যাবহার করে
    1.3  শেয়ার লিঙ্ক ব্যাবহার করে
  2. ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপ
    2.1  ল্যান ক্যাবল ব্যাবহার করে
    2.2  রাউটার ব্যাবহার করে
  3. ডেস্কটপ থেকে ডেস্কটপ
    3.1  ল্যান ক্যাবল ব্যাবহার করে
    3.2  রাউটার ব্যাবহার করে

এই ল্যান ক্যাবল কিংবা রাউটারের কথা শুনে অনেকেই পিছিয়ে যাবেন... কি কারনে?
৯০ টাকা দিয়ে একটা ৪ মিটারের ল্যান ক্যাবল কিনতে প্রবলেমটা কোথায়? আর রাউটার? বাসায় ব্রডব্যান্ড নিলে আপনিই নিজের তাকিদেই রাউটার কিনবেন। :p

এবার আমরা একের পর এক ফেজের মাধ্যমে দেখি কিভাবে দুইটি পিসিতে সহজে ডাটা ট্রান্সফার করতে পারবো।


ল্যাপটপ থেকে ল্যাপটপ

ল্যাপটপ কম্পিউটারে ডাটা ট্রান্সফার বেশ সুবিধারই! কারন এটে বিল্ট-ইন ওয়াইফাই এডাপ্টার, ব্লুটুথ রেডিও এবং পাশাপাশি একটা ল্যান মিনিপোর্ট থাকে। তাই আমরা ইচ্ছে করলে যেকোনো পদ্ধতিতে ল্যাপটপ থেকে ল্যাপটপে নিজেদের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী পথে তথ্য আদান প্রদান করতে পারি।


১.   কানেক্ট2 (শেয়ার ইট) অ্যাপ ব্যাবহার করে



হ্যাঁ, আমরা শেয়ার ইট বা, বর্তমানের নাম কানেক্ট টু অ্যাপলিকেশান ব্যাবহার করে সহজেই আমরা দুইটি ওয়াইফাই এনাবেল করা ল্যাপটপে হাই স্পিড ডাটা ট্র্যান্সফার করতে পারবো। এটি ডেভেলপ করেছে লেনোভো।
তাই আমাদের প্রথমে http://shareit.lenovo.com/ ওয়েবসাইট থেকে শেয়ার ইটের ডেস্কটপ ভার্সন ডাউনলোড করে নিতে হবে।

এবার দুইটি ল্যাপটপে শেয়ার ইট বা কানেক্ট টু সফটওয়ারটি এনাবেল করা থাকলে আমরা সহজেই ফাইল সিলেক্ট করে ফাইল শেয়ারিং করতে পারবো বন্ধুর বা সহকর্মীর পিসির সাথে, আর আমরা এতে স্পিড প্রায় ৫০ এমবিপিএস অতিক্রম করবে। কিন্তু শেয়ার ইট বা কানেক্ট টু দিয়ে কিন্তু আপনি চাইলে ল্যাপটপ থেকে মোবাইলেও ট্রান্সফার করতে পারবেন ডাটা। এতে মোবাইলে শেয়ার ইট অ্যাপটি ইন্সটাল করা থাকতে হবে।




ল্যান টু ওয়ে ক্যাবল
২.  ল্যান ক্যাবল ব্যবহার করে

ল্যান ক্যাবল দিয়ে আমরা আরও সহজে ট্রান্সফার করতে পারবো আমাদের প্রয়োজনীয় ডাটা। এটা একটু গেঞ্জাম মনে হতেপারে, কারন অনেকেই এখন আর তার দিয়ে কাজ করা প্রেফার করে না। কিন্তু এই ভাবে আমরা বেশ স্পিডেই ডাটা ট্রান্সফার করতে পারবো। আমরা এখানে ল্যান মিনি পোর্টের পুরো ব্যান্ডউইথ ইউজ করতে পারবো।
প্রথমে আমাদের ল্যান টু ওয়ে ক্যাবল দিয়ে দুইটি ল্যাপটপের ল্যান পোর্ট দিয়ে কানেক্ট করতে হবে।
তারপর চাইলে আমরা মাইক্রোসফটের হোমগ্রুপ ব্যাবহার করে ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবো।এই হোমগ্রুপ সকল উইন্ডোজ পিসিতেই  বিল্ট ইন থাকে। স্টার্ট মেনুতে গিয়ে সার্চ করলেই খুঁজে পাবেন।
হোমগ্রুপ ব্যবহার করে কিভাবে ফাইল শেয়ার করা যায় তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে "উইন্ডোজে হোমগ্রুপ ব্যবহার করে দুইটি পিসিতে ফাইল শেয়ার করো" শীর্ষক আমার লেখা পোস্টটি পড়ে দেখতে পারো। এখানে আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি।
এছাড়া DLan সফটওয়ারটি ব্যাবহার করে আমরা ফাইল শুধু শেয়ার না, পুরো হার্ডড্রাইভ শেয়ার করতে পারবো। এই সফটওয়্যারটি ওপেন সোর্স। ডাউনলোড করতে হলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। ডিল্যান দিয়ে ফাইল শেয়ার করতে হলেও দুইটি পিসিতে সেটাপ করা থাকতে হবে।







৩.  শেয়ার লিঙ্ক ব্যাবহার করে

শেয়ার লিঙ্ক অনেকটাই শেয়ার ইট বা কানেক্ট টু'র মতো সফটওয়ার, এর অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস এবং উইন্ডোজ ভার্সনও আছে, কিন্তু পার্থক্য হলো, শেয়ার ইট বা কানেক্ট টু কেবল ওয়াইফাই হটস্পটে কাজ করে, আর শেয়ার লিঙ্ক পুরো নেটওয়ার্কের মাঝে কাজ করতে পারে, মানে হোক ওয়াইফাই হটস্পট কিংবা রাউটার হোম নেটওয়ার্ক। দুটতেই সে সমান পারদর্শী। শেয়ার ইটের মতোও এর ডেভেলপার বেশ নামিদামি, আসুস।
এর ব্যাবহার খুবই সোজা, আপনারা এর ইউজার ইন্টারফেইস দেখলেই ব্যাবহার করতে পারবেন, অনেকটা শেয়ার ইটের মতো।
অ্যাান্ড্রয়েড সংস্করণ ডাউনলোড করুন এই লিঙ্ক থেকে। এবং ডেস্কটপ বা কম্পিউটার সংস্করণ ডাউনলোড করুন এই লিঙ্ক থেকে।

এছাড়াও আরও অনেকভাবে আমরা ল্যাপটপ থেকে ল্যাপটপে ডাটা ট্রান্সফার করতে পারি যেগুলো হয়তো আমি জানি না, কেউ জেনে থাকলে প্লিজ কমেন্টের মাধ্যমে আমাকে অবহিত করবেন।



ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপ


ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপে ডাটা ট্রান্সফার একটু কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ইউজারের জন্য কারন অধিকাংশ ডেস্কটপ সিপিইউতে তেমন কোনো নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস থাকে না, মানে বিল্ট ইন থাকে না। আবার ল্যাপটপে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ল্যান মিনিপোর্ট কেবল বিল্ট ইন থাকে এবং ব্লুটুথ রেডিও, ওয়াইফাই এডাপ্টার মূলত বিল্ট ইন থাকে। আমরা আর ব্লুটুথ বা ওয়াইফাই-এর দিকে না গিয়ে কেবল সাধারন একটি ডেস্কটপ কম্পিউটারের কিভাবে ল্যাপটপের সাথে ডাটা ট্রান্সফার করবো তা দেখে নিই,



ল্যান টু ওয়ে ক্যাবল
১.  ল্যান ক্যাবল ব্যবহার করে

ল্যান ক্যাবল দিয়ে আমরা সহজে একটি ল্যাপটপ এবং একটি ডেস্কটপের মাঝে ট্রান্সফার করতে পারবো আমাদের প্রয়োজনীয় ডাটা। এই ভাবে আমরা বেশ স্পিডেই ডাটা ট্রান্সফার করতে পারবো। আমরা এখানে ল্যান মিনি পোর্টের পুরো ব্যান্ডউইথ ইউজ করতে পারবো।
প্রথমে আমাদের ল্যান টু ওয়ে ক্যাবল দিয়ে ল্যাপটপের এবং ডেস্কটপের ল্যান পোর্ট কানেক্ট করতে হবে।
তারপর চাইলে আমরা মাইক্রোসফটের হোমগ্রুপ ব্যাবহার করে ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবো।এই হোমগ্রুপ সকল উইন্ডোজ পিসিতেই  বিল্ট ইন থাকে। স্টার্ট মেনুতে গিয়ে সার্চ করলেই খুঁজে পাবেন। কিন্তু উইন্ডোজের ভার্সন বা সংস্করণ মিলতে হবে, নাহলে কাজ করবে না।
হোমগ্রুপ ব্যবহার করে কিভাবে ফাইল শেয়ার করা যায় তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে "উইন্ডোজে হোমগ্রুপ ব্যবহার করে দুইটি পিসিতে ফাইল শেয়ার করো" শীর্ষক আমার লেখা পোস্টটি পড়ে দেখতে পারো। এখানে আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি।
এছাড়া DLan সফটওয়ারটি ব্যাবহার করে আমরা ফাইল শুধু শেয়ার না, পুরো হার্ডড্রাইভ শেয়ার করতে পারবো। এই সফটওয়্যারটি ওপেন সোর্স। ডাউনলোড করতে হলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। ডিল্যান দিয়ে ফাইল শেয়ার করতে হলেও দুইটি পিসিতে সেটাপ করা থাকতে হবে।



২. রাউটার ব্যবহার করে

প্রতীকী রাউটার

আমরা অনেকেই রাউটার দিয়ে হোম নেটওয়ার্ক তৈরি করি। 

মূলত আমরা যারা ব্রডব্যান্ড কানেকশান অথবা সিঙ্গেল মোডেমের ইউজার তারা একটা কানেকশান শেয়ার করে অনেক ডিভাইজে চালাতে রাউটার বা সুইচ ব্যাবহার করেন। 

বর্তমানে দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় এবং ওয়ারলেস ল্যানের সুবিধা থাকায় রাউটারের ব্যাবহার বেশি। 

রাউটারের সাহায্যে যদি কোনো তৈরি নেটওয়ার্কে একটি ল্যাপটপ এবং একটি ডেস্কটপ  একসাথে থাকে তবে আমরা এখানে ডিল্যান, হোমগ্রুপ এবং অন্যান্য থার্ড পার্টি ল্যান শেয়ারিং সফটওয়ার ব্যাবহার করে সহজে ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবো।






ডেস্কটপ থেকে ডেস্কটপ

ডেস্কটপ থেকে ডেস্কটপে ডাটা ট্রান্সফার একটু কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ইউজারের জন্য কারন অধিকাংশ ডেস্কটপ সিপিইউতে তেমন কোনো নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস থাকে না, মানে বিল্ট ইন থাকে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ল্যান মিনিপোর্ট কেবল বিল্ট ইন থাকে। তাছাড়া ব্লুটুথ রেডিও এবং ওয়াইফাই এডাপ্টার মূলত কাস্টম কিনে নিয়ে ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে সংযুক্ত করে ব্যাবহার করতে হয়। আমরা আর ব্লুটুথ বা ওয়াইফাই-এর দিকে না গিয়ে কেবল সাধারন এক্টী ডেস্কটপ কম্পিউটারের কিভাবে ডাটা ট্রান্সফার করবো তা দেখে নিই,


১.  ল্যান ক্যাবল ব্যবহার করে

ল্যান ক্যাবল দিয়ে আমরা সহজে একটি ডেস্কটপ এবং আরেকটি ডেস্কটপের মাঝে ট্রান্সফার করতে পারবো আমাদের প্রয়োজনীয় ডাটা। এই ভাবে আমরা বেশ স্পিডেই ডাটা ট্রান্সফার করতে পারবো। আমরা এখানে ল্যান মিনি পোর্টের পুরো ব্যান্ডউইথ ইউজ করতে পারবো।
ল্যান টু ওয়ে ক্যাবল

প্রথমে আমাদের ল্যান টু ওয়ে ক্যাবল দিয়ে দুইটি ডেস্কটপের ল্যান পোর্ট কানেক্ট করতে হবে।
তারপর চাইলে আমরা মাইক্রোসফটের হোমগ্রুপ ব্যাবহার করে ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবো।এই হোমগ্রুপ সকল উইন্ডোজ পিসিতেই  বিল্ট ইন থাকে। স্টার্ট মেনুতে গিয়ে সার্চ করলেই খুঁজে পাবেন। কিন্তু উইন্ডোজের ভার্সন বা সংস্করণ মিলতে হবে, নাহলে কাজ করবে না।
হোমগ্রুপ ব্যবহার করে কিভাবে ফাইল শেয়ার করা যায় তা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে "উইন্ডোজে হোমগ্রুপ ব্যবহার করে দুইটি পিসিতে ফাইল শেয়ার করো" শীর্ষক আমার লেখা পোস্টটি পড়ে দেখতে পারো। এখানে আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি।
এছাড়া DLan সফটওয়ারটি ব্যাবহার করে আমরা ফাইল শুধু শেয়ার না, পুরো হার্ডড্রাইভ শেয়ার করতে পারবো। এই সফটওয়্যারটি ওপেন সোর্স। ডাউনলোড করতে হলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। ডিল্যান দিয়ে ফাইল শেয়ার করতে হলেও দুইটি পিসিতে সেটাপ করা থাকতে হবে।


২. রাউটার ব্যবহার করে

প্রতীকী রাউটার

আমরা অনেকেই রাউটার দিয়ে হোম নেটওয়ার্ক তৈরি করি। 

মূলত আমরা যারা ব্রডব্যান্ড কানেকশান অথবা সিঙ্গেল মোডেমের ইউজার তারা একটা কানেকশান শেয়ার করে অনেক ডিভাইজে চালাতে রাউটার বা সুইচ ব্যাবহার করেন। 

বর্তমানে দাম সাশ্রয়ী হওয়ায় এবং ওয়ারলেস ল্যানের সুবিধা থাকায় রাউটারের ব্যাবহার বেশি। 

রাউটারের সাহায্যে যদি কোনো তৈরি নেটওয়ার্কে দুইটি ডেস্কটপ  একসাথে থাকে তবে আমরা এখানে ডিল্যান, হোমগ্রুপ এবং অন্যান্য থার্ড পার্টি ল্যান শেয়ারিং সফটওয়ার ব্যাবহার করে সহজে ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবো।

আরও পড়ুন

ইচ্ছে

ইচ্ছে





রাত প্রায় এগারোটা। 
রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছেন রাকিব সাহেব। 
তার এতো রাতে রাস্তা দিয়ে হাটার কোনও যৌক্তিকতা নেই। কারন তিনি কখনই তেমন স্বাস্থ্যসচেতন না। 
ছেলের সাথে রাগারাগি করে বাসা থেকে বেরিয়ে এসেছেন। 
কথা কাটাকাটির বিষয় অত্যন্তই তুচ্ছ। 
কিন্তু রাকিব সাহেব সেই ব্যাপারটাকে বড় করে দেখছেন। 
তার ছোট ছেলে, তাই তিনি আরও একটু বেশি গুরুত্বের সাথেই দেখছেন। তার ছেলে এখন নবম শ্রেণীতে পড়ে, এখন সে কোন বিষয় চতুর্থ বিষয় হিসেবে নিবে এই নিয়ে বাবার সাথে ঝগড়া করেছে। সবে তার ছেলে রায়হান অষ্টম শ্রেণী পেরিয়ে নবমে উঠেছে। কথা শোনে না, জেদি, তবে পড়াশোনায় ফাকি কম দেয়। তাই রেজাল্ট ভালো। তবুও রাকিব সাহেব তাকে চাপে রাখেন। সার্জন বানাবেন ছেলেকে। এর মানেই ডাক্তার বানাবেন। 
তাই তাকে বলেছিলেন হায়ারম্যাথ চতুর্থ বিষয়ে রাখতে। সে কারো কথা না শুনে বায়োলজি দিয়ে এসেছে। এই কথা বাসায় জানানোর পর রাকিব সাহেব যাচ্ছেতাই ব্যাবহার করেছেন ছেলের সাথে।
সবসময় এই ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন ছেলে ডাক্তার হবে, বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে।

আর এই বেয়াদব ছেলে কিনা গিয়ে সোজা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ধান্দায় আছে। ভাবতে ভাবতেই আবার মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো তার। পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরালেন। কিছুক্ষন হাটার পর একটা রিকশা ডেকে উঠে পড়লেন তাতে। উদ্দেশ্য গুলশান লেক। নেমে এসে লেকের ধারে হাটতে লাগলেন তিনি। ভাবতে লাগলেন একটু আগের কথা...

*

রেগে গিয়ে রায়হানকে চড় মারেন তিনি। রায়হানের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। সে শান্ত স্বরে বাবার দিকে তাকিয়ে বলে, আমি যা পড়তে চাই তাই পড়বো, আমাকে দিয়ে জোড় করবে না আব্বু, নাহলে আমি পড়াশোনাই ছেড়ে দেবো। এই বেয়াড়া রকমের কথা শুনে রাকিব সাহেবের মেজাজ আরও খারাপ হয়ে ওঠে। চিৎকার করে ছেলেকে বেশ কিছু আজে বাজে কথা শোনান তিনি। 

“ছেড়ে দে পড়াশোনা! তোকে পড়তে বলেছে কে? যা আমার বাসা থেকে বেরো, তোর খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেবো। হয় তুই থাকবি আমার বাড়িতে, নাইলে আমি...”

রায়হান সাথে সাথে ঘরের দরজা আটকে দিয়ে ভেতরে বসে থাকে, বাবার চিৎকার তার শুনতে ইচ্ছে করছে না। আর রাকিব সাহেব সাথে সাথে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন। কেউ আটকালোনা দেখে বাড়িতে ফিরবেন না বলে দিয়ে গেলেন।


রায়হানের ছোটবেলায় প্রতিবেশি ইসমাইল ভাইয়াকে দেখে স্বপ্ন, কম্পিউটার এঞ্জিনিয়ার হবে, গেইম বানাবে, সফটওয়ার বানাবে। ইসমাইল ভাইয়া এখন ব্রিটেনে থাকে, ওখানে তার নিজের সফটওয়ার ফার্ম তৈরি করেছে। সে যা চায়, যা পারে, তাইতো সে করবে, তাকে কেন জোর করেও ডাক্তারই হতে হবে? ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যায় রায়হান। মা তাকে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য ডেকেও তুলতে পারে না, আসলে তার ওঠার কোনো ইচ্ছেই নেই, বাবার ওপর অভিমান তাকে আরও জেদি করে তুলেছে। 



*

রাকিব সাহেব চতুর্থ সিগারেটটা শেষ করলেন পার্কের বেঞ্চে বসে। ভাবছেন রাতে বাড়ি যাবেন না। বন্ধুবান্ধব নাহলে আত্মীয়ের বাসায় থাকবেন। কিন্তু ফ্যাসাদে পড়লেন এই মনে করে যে, এই এলাকায় তার অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই এবং তার আত্মীয় সকলেই অনেক দূরে দূরে থাকে, আর পকেটে টাকাও সীমিত এনেছেন, মানিব্যাগ আর মোবাইলফোন আনতেই ভুলে গেছেন।

বসে বসে ঠাণ্ডা বাতাস উপভোগ করতে লাগলেন তিনি। হঠাৎ কিছু দুরের একটা বেঞ্চে তার চোখ পড়লো, হ্যাঁ, একটা ছেলেই বসে আছে। বয়স একুশ বাইশ হবে হয়তো, মাথা নুইয়ে রেখেছে।

হঠাৎ ভয় পেলেন রাকিব সাহেব, মাদকাসক্ত হতে পারে, নাহলে এতো রাতে এখানে কি করছে? অথবা ছিনতাইকারীও হতে পারে। কিন্তু আপন কৌতূহলবশত তিনি ছেলেটার কাছে ধীরে ধীরে এগোতে লাগলেন। এবার তিনি চিনতে পারলেন ছেলেটাকে, হ্যাঁ, তার প্রতিবেশি এঞ্জিনিয়ার রহিম সাহেবের ছেলে, রাফিন।
এবার এইচএসসি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। এর বেশি খোঁজ তিনি নেন নি।

ছেলেটা মাথা নিচু করে বসে আছে। কাছে গিয়ে ডাকলেন রাকিব সাহেব, “রাফিন!”

মাথা তুলে তাকালো রাফিন, চোখ লাল, দু’হাতে চোখ মুছে উঠে দাঁড়ালো সে,

“জ্বি আঙ্কেল! আপনি এতো রাতে! এখানে?”

“আমারো প্রশ্ন তুমি এতো রাতে এখানে কি করছো?”

“কিছু না”

“কিছু যে একটা হয়েছে তোমার চোখের পানি দেখেই বুঝতে পারছি, কি হয়েছে বলো...”

“আঙ্কেল বাসায় একটা সমস্যা হয়েছে”

“কি সমস্যা?”

“আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রিপলিতে চান্স পাইনি, কারন আমার জিপিএ ছিল না, আমি অনেক কষ্টে জার্নালিজমে চান্স পেয়েছি। এখন আব্বা বলছে তার বংশে কেউ নাকি কেউ এঞ্জিনিয়ার বাদে অন্য কিছু হয় নি। তার বংশে আমার যায়গা নেই। আব্বা আমার সাথে কথা বলা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে। বলেছে, তার বাড়িতে তার বংশের কুলাঙ্গার রাখবে না। তাই আমি রাগ করে বাড়ি থেকে চলে এসেছি”

“কেন? জার্নালিজম কি কম ভালো নাকি? চাইলে তো তুমি এখান থেকেই যেকোনো সংবাদপত্রে বা মিডিয়ায় ভালো পদে জব করতে পারবে। এছাড়া ইউনিভার্সিটিতে তুমি লেকচারার হিসেবে জব করতে পারো”

“আব্বাকে সে কথা কে বোঝাবে? আমি আমার মতো পড়তে চেয়েছিলাম, উনি কেবলই আমাকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানোর জন্য চাপ দিতেন।”

“কি পড়তে চেয়েছিলে তুমি?”

“সাংবাদিকতাই পড়তে চেয়েছিলাম, পড়তে চাইও... সাংবাদিক হবারই ইচ্ছা ছিলো অনেকদিন, কিন্তু আব্বা বাঁধ সাধছে”

“আমি দেখি তোমার আব্বাকে বুঝিয়ে বলবো...”

“দেরি হয়ে গেছে যে, আঙ্কেল...”

“মানে??”

“কিছু না”

হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে যায় রাফিন, উঠে দাঁড়ায়, ফিরে তাকায় রাকিব সাহেবের দিকে,
“আঙ্কেল, আমাদের বড় বড় স্বপ্নগুলো ভাঙবেন না, কারন আমাদের ভবিষ্যৎ কেবল আমাদেরই, আপনাদের নয়, চলি আজ, বিদায়”

লম্বা এবং ধীরপদবিক্ষেপে লেকের পাশে ছোট জংলা মতো জায়গার দিকে হাটতে থাকে রাফিন, এবং এক সময় আঁধারে মিলিয়ে যায়।

স্থির হয়ে লম্বা সময় বসে থাকলেন। ভাবলেন রাফিনের শেষ কথাগুলো। ছেলেটাতো খুব একটা ভুল বলে যায়নি। ওদের ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে, আমরা যদি তাদের স্বপ্নের মতো তাদের নিজেদের গড়ে তোলার জন্য সহযোগিতা করতে পারি তবেই না ওরা বড় হয়ে সত্যিকারের মানুষ হবে। মনের মতো কাজ করে আনন্দ পাবে। সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।

উঠে দাঁড়ালেন, এই একটা কথাই তার মনোভাব বদলে দিলো।

হেঁটে হেঁটেই বাসায় ফিরলেন উনি।

উঁকি দিয়ে দেখলেন প্রথমে রায়হানের ঘরে, না, ঘুমিয়ে পড়েছে। পড়বারই কথা, ঘড়ির কাঁটা রাত ২টার ঘর ছুঁইছুঁই।

সকাল সাড়ে ৬টা।

ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ে খবরের কাগজটা নিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসলেন রাকিব সাহেব। অফিস এগারোটায়, ন’টার সময় বেরিয়ে যাবেন। তার স্ত্রী আফসানা আহমেদ চা নিয়ে আসলেন।

চা খেতে খেতে খবরের কাগজে নজর দিতে লাগলেন তিনি, পাশে রায়হানের আম্মা আফসানা আহমেদ চা খাচ্ছিলেন। রায়হানের আম্মাকে জিজ্ঞাসা করেন রায়হান সাহেব, “রায়হান ঘুম থেকে উঠেছে নাকি?”

“অনেক আগেই, তোমার আগেই নামাজ পড়ে বাহিরে গেছে।”

“তাই নাকি?”

“হুম”

ঠিক তখনি বেল বেজে উঠলো, রায়হান আসেছে, সকালে হাঁটা তার অভ্যাস।

কিছুক্ষন পর রায়হানকে ডেকে পাঠালেন রাকিব সাহেব।

“কিছু খেয়েছো?”

“না”

“বসো এখানে”

একটা প্লাস্টিকের চেয়ার টেনে সে বাবার মুখোমুখি বসলো।

“চতুর্থ বিষয় কি নিতে চাও?”

“বায়োলজি”

“কেন?”

ইতস্তত করে রায়হান বলে,
“আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বো, সেজন্যে বায়োলজিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাচ্ছি না”

“আচ্ছা, ফোর্থ সাবজেক্ট বায়োলজি নাও, আর তোমার যে কোনো দরকারে আমার সাথে কথা বলো, কেমন?”

“আচ্ছা আব্বু”

বাবার পরিবর্তন টের পায় রায়হান, অবাক হয়ে সে তার অন্য বাবাকে দেখতে থাকে।

তারপর হাসিমুখে চলে যায় নিজের ঘরে।

প্রশান্তির একটা শ্বাস ফেলেন রাকিব সাহেব, ছেলের হাসিমুখ যেন তার অনেক দুশ্চিন্তা হাল্কা করে দিলো। নিশ্চিন্ত মনে চায়ের কাপে চুমুক দিতে লাগলেন তিনি।



Image from AmarBlog.Com


আরও পড়ুন

মোট পাতাদর্শিত